ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হলো না তাদের

ঈদের ছুটি শেষে গাইবান্ধা থেকে ছোট ছেলে ও বিয়াইনকে নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন নার্গিস। কিন্তু চিরচেনা কর্মস্থলে প্রিয়জনদের সঙ্গে আর দেখা হলো না। টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান নার্গিসসহ ৫ জন। শুক্রবার রাতে উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় এ মর্মাতিক ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার পূরাব নিজপাগা গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস (৩৫), তার ছেলে নিরব (১২), নার্গিসের বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা (৩৫), একই এলাকার রাইজেল মিয়ার ছেলে সুলতান (৩৩) ও আব্দুর রশিদের মেয়ে রিফা (২৩)।

বাসের যাত্রীরা বলেন, হঠাৎ করেই বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। পরে বাসের চালক ও হেলপার মহাসড়কের রেল লাইনের পাশে দাঁড় করিয়ে তেল আনতে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাসটি একই স্থানে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় বেশ ‍কিছু যাত্রীরা প্রকৃতির ডাকে বাস থেকে নামে। আবার কেউ কেউ রেল লাইনে বসে ছিলেন এবং ফোনে কথা বলছিলেন। বাসের যাত্রীরা বেশি ভাগই পোশাক কারখানার কর্মী ছিলেন। একজন শিশু ছাড়া সবাই কর্মস্থলে যোগ দান করার জন্য যাচ্ছিলেন।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, আমারা অনেকেই কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য আগেই চলে এসেছি। পরিবারের অন্যন্য সদস্যরা কর্মস্থলে যোগদানের জন্য আজ বাসে করে রওনা হয়। তারা সবাই পোশাক কর্মী ছিলেন।

টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলস্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা গাজীপুরের একটি যাত্রীবাহী একটি বাস কালিহাতী উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। এসময় কয়েকজন যাত্রী বাস থেকে নেমে টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশে রেললাইনে বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসের ট্রেন চলে আসে। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়।

আব্দুল্লাহ আল নোমান/এনএইচআর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Are you human? Please solve:Captcha