রামেক হাসপাতালে ৯ নকল এসি লাগালেন ঠিকাদার

চুক্তি ছিল নেতৃস্থানীয় ব্র্যান্ড গ্রি’র নয়টি এয়ার কন্ডিশনার সরবরাহ এবং ইনস্টল করার। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুয়া এসি সরবরাহ ও স্থাপন করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। নিশ্চিত হওয়ার পর সম্প্রতি পাঁচটি নকল এসি অপসারণ করে করিডোরে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রকৃত এসি সরবরাহ না করা পর্যন্ত ঠিকাদারকে সেগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতেও অস্বীকার করেছে তারা।

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি অংশের পঞ্চম তলায় ১০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশন সম্প্রতি নতুন আইসিইউতে নয়টি দুই টন এসি ইনস্টল করে। এসি বসানোর কয়েকদিনের মধ্যেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এসিগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ টেকনিশিয়ানদের দিয়ে স্থাপিত এসি পরীক্ষা করলে জানতে পারে ঠিকাদার এসির বডিতে গ্রি ব্র্যান্ডের ট্যাগ লাগিয়ে ভুয়া এসি সরবরাহ করেছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফএম শামীম আহমেদ বলেন, প্রথমে বুঝতে পারিনি যে এসিগুলো নকল। এসিগুলো নকল ছিল তা নিশ্চিত হওয়ার পর আমরা স্থাপিত নয়টি এসির মধ্যে পাঁচটি সরিয়ে দিয়েছি এবং গণপূর্ত বিভাগের ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে বুধবার আমরা অফিসে দেখা করতে বলেছি।

এফএম শামীম আহমেদ বলেন, ঠিকাদার ইতোপূর্বে নতুন আইসিইউতে টেন্ডারে উল্লিখিত ‘এ’ ক্যাটাগরির বেড-কাম-প্যাসেঞ্জার লিফটের পরিবর্তে ‘সি’ ক্যাটাগরির প্যাসেঞ্জার লিফট বসিয়েছিল এবং তারা তাকে তা সরাতে বাধ্য করেছিলেন। কয়েক মাস অতিবাহিত হলেও আমরা এখনো ‘এ’ ক্যাটাগরির বেড-কাম-প্যাসেঞ্জার লিফ্ট পাইনি। গণপূর্ত বিভাগকে ওই ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করতে বলা হবে।

তবে ব্রাদার্স কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সাখাওয়াত হোসেন/এফএ/জেআইএম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *